টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হ’ত্যা মামলায় সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিন জনের মৃত্যুদন্ড ও চার জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়াও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও দন্ডিত যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণন্ড প্রদান করা হয়। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা,
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ ও দ্যাইনা এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান। এরা সবাই পলাতক রয়েছে। এছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার যোগনী এলাকার লতিফ মিয়ার ছেলে মে. সুজন, দ্যাইনা এলাকার রওশন আলীর ছেলে ছানোয়ার হোসেন,
চর কাগমারা এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম, ছিটকী বাড়ী এলাকার নুর বক্সের ছেলে রুজবেল। এদের মধ্যে সুজন ও ছানোয়ার কারাগারে রয়েছে বাকি আসামি পলাতক। এ মামলায় অপর একজন দ্যাইনা এলাকার অমূল্য ঘোষের ছেলে সঞ্জিত ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাটতে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কু’পিয়ে হ’ত্যা করে।
পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি আবার অভিযোগপত্র জমা দেন।
এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন।








