আস্থা ডেক্স : প্রায় দুই বছর কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েও সুস্থতা পেলেন না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মো. সেলিম আহমেদ (৪৬)। নাবালক এক ছেলে-এক মেয়ে,সদ্য স্বামী হারা স্ত্রী আর বিধাব মাসহ পরিবারের সকলকে কাঁদিয়ে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারী) ইফতার পূর্ববর্তী সময়ের বিকেলে সদর দফতর পিলখানাস্থ বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিজিবি সদস্য মো. সেলিম আহমেদ এর মৃত্যুর সময়, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ক্যাম্পেই সেলিমের মরদেহের গোসল সম্পন্ন আর তারাবির নামাজ শেষে প্রথম জানাজার নামাজ আদায় হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে অবস্থানরত সহধর্মিনী সনিয়া আক্তার।
রাতেই বিজিবির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে মরহুম মো. সেলিম আহমেদ এর মরদেহ নিজ বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর শহরের ১১ নং ওয়ার্ডের মেইনরোডস্থ থানাপাড়া দারুল উলুম আলীয় মাদরাসার পশ্চিমাংশের আবাসিক এলাকায় আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) সকাল ১০ ঘটিকায় থানাপাড়া দারুল উলুম আলীয় মাদরাসায় জানাজার নামাজ শেষে বেবীস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
২০০৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তে সৈনিক পদে যোগদান করেন সেলিম আহমেদ। তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-১)। কোলন ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করা বিজিবি সদস্য মো.সেলিম আহমেদ ওই এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বিজিবি’র অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর মরহুম আব্দুল ওয়াহেদ ও শেফালী বেগম দম্পতির এক মেয়ে ও চার ছেলের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। মৃত্যুকালে সেলিম পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া বারো বছর বয়সী মোহাম্মদ হোসেন আলামিন (১২) ও ফাতেমা আক্তার উর্মি (৩) বছরের নাবালক দুই সন্তান, সদ্য স্বামী হারা স্ত্রী আর বিধাব মাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য,গত ২০২৪ সালের ২২ জুন সেলিমের পায়ুপথে রক্তক্ষরণের কারণে প্রথম পাইলস্ এর সার্জারী হয় চুয়াডাঙা বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসকগণ। সার্জারীতে সুস্থ না হওয়ায় দ্বিতীয় সার্জারী করাসহ ঢাকায় পাঠানো সেলিমের দুটি শারীরিক পরীক্ষার ফলাফলে ক্যান্সার সনাক্ত হয়।
রোগী ও পরিবারের সদস্যদের আবেদন আর নিজস্ব উদ্যোগে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার শর্তে ছুটি মঞ্জুর করেন কর্তৃপক্ষ। প্রায় চৌদ্দ মাস যাবৎ রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি
সাত মসজিদ রোডস্থ ডা. ফজলুল হক কলোরেকটাল হসপিটাল লিমিটেডে প্রফেসর ডা. এ. কে.এম ফজলুল হক, কলোরেকটাল সার্জন ডা. আশিফ আলমাস হক, ডা. সাকিব সারওয়াত হক, ডা.ইমরান খান, ডা. আল আমিন অভি ও ডা, এস.এম. নেওয়াজ মোর্শেদ এর তত্ত্বাবধানের চিকিৎসাধীন ছিলেন কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত বিজিবি সৈনিক সেলিম।
উন্নত চিকিৎসা গ্রহণে পরিবারসহ নানা সাহায্য সহযোগিতা ঋণের টাকায় বেসরকারি হাসপাতালে ৩টি সার্জারি, ৬টি ক্যামোথেরাপি আর ২৮টি রেডিয়েশন থেরাপি প্রয়োগে চরম টাকার অভাবে এক মাস চিকিৎসা বঞ্চিত ছিলেন বিজিবি সদস্য সেলিম। পরবর্তীতে বিজিবি সৈনিক সেলিমের টাকার অভাব আর বিনা চিকিৎসা বিছানায় কাতরাচ্ছেন শিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় পূনরায় বিজিবি সদস্য সেলিমকে উন্নত চিকিৎসাসহ সকল ব্যয়বহনের দায়িত্ব নেয়া হয়।








